• দিনাজপুরে মঞ্চ মাতালো নবরূপীর নাটক সলিউশন এক্স

    নাটক হোক অসাম্প্রদায়ীক বাঙালীর শাশ্বত শক্তি এই শ্লোগানকে সামনে রেখে দিনাজপুর নাট্য সমিতি মির্জা আনোয়ারুল ইসলাম তানু স্মরণে দ্বাবিংশ দিনাজপুর নাট্য উৎসবে মঞ্চ মাতালো দিনাজপুর নবরূপীর নাটক সলিউশন এক্স। দিনাজপুর নাট্য সমিতি মির্জা আনোয়ারুল ইসলাম তানু স্মরণে দ্বাবিংশ দিনাজপুর নাট্য উৎসবের ১৯তম দিনে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় দিনাজপুর নবরূপীর পরিবেশনায় সলিউশন এক্স নাটক পরিবেশিত হয়। বাদল সরকারের রচনায় ও শামীম রাজার নির্দেশনায় নাটকটি পরিবেশন করে নবরূপীর নাট্যকর্মীরা। নাটকটি উপভোগ করতে দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ হয় নাট্য সমিতির মিলনায়তন। নাটক চলাকালীন কখনো সুনসান নিরবতা, কখনো হাসি পাল্লা হৈহুল্লাতে ভরে উঠে পূরো মিলনায়তন। আত্মভোলা এক বিজ্ঞানী আর তার দুই সঙ্গীর গবেষনা নিয়ে গড়ে উঠেছে “সলিউশন এক্স” নাটকের কাহিনী। মানুষের যৌবন ধরে রাখার ঔষধ আবিষ্কারের লক্ষ নিয়ে দিন-রাত গবেষনার পর সেটি উল্টো ফল বয়ে আনে, সেটি নিয়ে হাস্যরসাত্মক নানা ঘটনা দেখা যায় এ নাটকে। নাটকের অভিনয় শিল্পীরা হলেন, শামীম রেজা, রায়হান পারভেজ সিফাত, কোরাইশা আকতার স্মৃতি, আবু আহাদ পিয়াস, মনোয়ার পারভেজ সরকার, মোঃ আকবর আলী, আয়েশা মনি, প্রণব চন্দ্র শীল, শশাংঙ্ক সাহা বাবুন, সিফাত-ই-জাহান শিউ ও শিশুশিল্পী সৌহার্দ্য এবং নেপথ্যে ছিলেন আরো ১০ জন।

  • গোপালগঞ্জে দুই দিনব্যাপী শিশু আনন্দ মেলা শুরু

    গোপালগঞ্জে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী শিশু আনন্দ মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে গোপালগঞ্জ শিশু একাডেমি ভবনে এই উৎসব চলছে। বাংলা নববর্ষ পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, গোপালগঞ্জ জেলা শাখা এ উৎসবের আয়োজন করে। সকালে জেলা শিশু একাডেমিতে আয়োজিত এ উৎসব উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা শিশু কর্মকর্তা খোন্দকার নিপুন হোসেন। দুই দিনব্যাপী শিশু আনন্দ মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবে রয়েছে শিশু সমাবেশ, নাট্যোৎসব, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণ।এ সব প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন, সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মুন্না, জেলা তথ্য অফিসার হাসিবুল হাসান, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুন্সী ওহিদুজ্জামান, প্রফুল্ল বল, কৃষ্ণ মধু ও সুব্রত বিশ্বাস।প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে আগামীকাল শুক্রবার বিকেলে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। এতে জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

  • জাতীয় জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার গান-আবৃত্তি সন্ধ্যা

    মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বিজয়ের জমজমাট গান ও কবিতায় শুক্রবার সন্ধ্যা মুখর ছিল জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী শাহীন সামাদের স্বাধীনতার গান ও বাচিক শিল্পী বেলায়েত হোসেনের কবিতার যুগলবন্দি নিয়ে অনুষ্ঠানটি বিপুলসংখ্যক দর্শক শ্রোতা উপভোগ করেন। জাতীয় জাদুঘর আয়োজিত এই প্রধান অতিথি থেকে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। অধ্যাপক সিদ্দিক বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের গান, নাটক, কবিতা, গীতিনাট্য আমাদের ইতিহাসের অনন্য সম্পদ। এই সম্পদ নতুন প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন করার ফলে তারা নিজেদেরকে সংস্কৃতি সংগ্রাম সম্পর্কে জানতে পারছেন। তিনি বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে বিভিন্ন অঙ্গনের শিল্পী, সাহিত্যিক, কবিদের অবদান ছিল ব্যাপক পরিসরে। বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন থেকেই শিল্পীরা মাঠের সংগ্রামে অবতীর্ণ হন তাদের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। তাদের এই সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধের বিজয় পর্যন্ত অবিরাম অব্যাহত ছিল। অনুষ্ঠানে শিল্পী শাহীন সামাদ যে সব গান পরিবেশন করেন, সেগুলো হচ্ছে- বাংলা ভাষা রাখতে মাগো, ওরে বিষম দৈরার ঢেউ, বাংলা আমার জন্মভূমি, মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম, বিজয় নিশান উড়ছে ঐ, স্বাধীন স্বাধীন দিকে দিকে, এবং চারটি নরুজল গীতিসহ আটটি গান। গানের ফাঁকে ফাঁেক শিল্পী বেলায়েত হোসেন আবৃত্তি করেন মুক্তিযুদ্ধ, বিজয় ও স্বাধীনতার কয়েকটি কবিতা। এগুলোর মধ্যে রয়েছে,কবি শামসুর রাহমানের ‘ তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা, কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ‘ আজও আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই’,কবি হুমায়ূন কবিরের ‘ এক গঞ্জের গল্প, কবি নির্মলেন্দু গুণের ‘স্বাধীনতা এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’ এবং কবি হেলাল হাফিজের ‘শরর্ণার্থী’ কবিতা। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন জাতীয় জাদুঘরের শিক্ষা বিভাগের কীপার কবি শিহাব শাহরিয়ার। স্বাধীনতার সাতচল্লিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাদুঘরের বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন। পুরো মার্চ মাসে এ নিয়ে জাদুঘর স্বাধীনতার বার্র্ষিকীতে মোট এগারটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানগুলোতে অতিথি হিসেবে শতাধিক কবি, লেখক, শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীরা অংশ নেন।

  • বান্দরবানের ‘ডিমপাহাড়’ পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে

    সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩ হাজার ফুট উঁচু বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে ভ্রমণ পিপাসুদের মাঝে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। তবে ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এ পথের মাঝখানে থাকা ‘ডিমপহাড়’ এলাকাটি পর্যটকদের বেশি নজর কাড়ছে। জেলার থানচি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যহ্লাচিং মারমা জানান, দেশের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ের ওপর থানচি-আলীকদম সড়কের মাঝপথে অবস্থিত ডিমপাহাড় এলাকাটি জেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি অর্জন করতে শুরু করেছে । কারণ পুরো ৩৩ কিলোমিটার সড়কপথ জুড়েই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি। রকমারী ফুল-ফলে আচ্ছাদিত সবুজ গাছ-গাছালিতে ঠাঁসা এই সড়ক পথ। পিচঢালাই আঁকা-বাঁকা পথে এসব দৃশ্য দেখে ভ্রমণপিপাসুরা মনের ভেতর স্পন্দন খুঁজে পান। পুরো সড়কপথের সাথে যোগ হয়েছে সবুজপাহাড় আর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ছোট-ছোট পাড়া, গ্রামগুলোর বৈচিত্র্যময় মানুষের জীবনধারা ও পথচলা। তবে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এখনও বিপদমুক্ত নয়, এমন এলাকাসমূহে পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপত্তা চৌকি কিংবা নিরাপত্তা ক্যাম্প বসানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। বগুড়া থেকে ভ্রমণে আসা পর্যটক আবদুল হালিম, রফিক উদ্দিন এবং মমতাজ খানম জানান, তারা ৩ দিন আগে আলীকদম হয়ে থানচি উপজেলা সদরের সড়কপথ ভ্রমণ করেছেন এবং সেখানে তারা ডিমপাহাড় নামক স্থানে বিশ্রাম করে বেশ আনন্দ উপভোগ করেছেন। তারা আরো জানান, কেবল ডিমপাহাড় এলাকাটিই নয়, ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ থানচি-আলীকদম উপজেলা সড়কের প্রতি ১০ কিলোমিটার পর পর একটি করে পথিক বা পর্যটকদের জন্যে অস্থায়ী বিশ্রামাগারসহ নিরাপত্তা চৌকি নির্মাণ করা আবশ্যক। এসব নির্মিত হলে ভ্রমণপিপাসুরা এ সড়ক ব্যবহারে আরও আগ্রহ এবং স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন বলে তারা জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা পর্যটকদের নিরাপত্তা বিষয়ে জানান, জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কের পাশে পৃথকস্থানে স্থাপিত নিরাপত্তা চৌকিসমুহে যাতায়াতকারী পর্যটকসহ যাত্রীবহনকারী যানবাহনগুলোর চালক এবং যাত্রীদের জরুরি মোবাইল নাম্বাসহ ডাটা লিপিবদ্ধ করা হয়। যাতে করে যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায়। যাতে পর্যটকরা সমস্যায় না পড়েন তার জন্য গাইডের ব্যবস্থাও রয়েছে। যেভাবে যেপথে আলীকদম-থানচি সড়ক ব্যবহার করবেন: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের চকরিয়া বাসস্টেশন থেকে আলীকদমমুখি বাস কিংবা ছোট যানবাহনে আলীকদম উপজেলা সদরে এবং সেখান থেকে হালকা যানবাহনে সহজেই যাওয়া যায় ‘ডিমপাহাড় এলাকা’। আবার বান্দরবান জেলা সদর হয়ে থানচি উপজেলা সদর থেকে যেকোন হালকা যানবাহন চেপেই দ্রুত সময়ের মধ্যে ভ্রমণ করা যায় ওই সড়কপথ। তবে প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা হিসেবে পাহাড়ে যানবাহন চালাতে দক্ষ এমন চালককেই সাথে আনা আবশ্যক। কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলা সদর থেকে আলীকদম-থানচি সড়কপথে যাবার সময় লামা উপজেলার টপহিল মিরিন্জা পর্যটন কেন্দ্র এবং আলীকদম উপজেলা সদরের কাছে পর্যটন কেন্দ্র আলী ছড়ংগ দর্শনের সুযোগ পাবেন। জেলা সদর হয়ে থানচি-আলীকদম সড়কপথ ভ্রমণে গেলে দর্শনীয় স্থান প্রান্তিক লেক, নীলাচল, রাজবাড়ি, শৈলপ্রভাত, চিম্বুক পাহাড়, জিয়া পুকুর, সুভ্রনীলা, নিলগিরি এবং জীবননগর অবলোকনের সুযোগ রয়েছে। এখন পর্যটকদের ভ্রমণ মৌসুম না হওয়া সত্বেও প্রতিদিনই বিশেষ করে শুক্রবার-শনিবারসহ সরকারি বন্ধের দিন বিপুল পর্যটকের সমাগম ঘটছে বান্দরবানে।

  • দিনাজপুর মহিলা পরিষদ এর উদ্দ্যেগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    কবি বেগম সুফিয়া কামালের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ।২০ নভেম্বর সোমবার কবি বেগম সুফিয়া কামালের ১৮তম মৃত্যু দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, দিনাজপুর জেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, দিনাজপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি আয়শা সরকার। সভার শুরুতে বাঙালি জাতির বিবেক. সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে অকুতোভয় সংগ্রামী, শতাব্দীর সাহসিকা কবি সুফিয়া কামাল ২০ নভেম্বর ১৯৯৯ তারিখে ৮৮ বছর বয়সে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তার মৃত্যুতে যে বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছিল তা কখনই পূরণ হবার নয় উল্লেখ করে স্বাগত বক্তব্যে  বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ড.মারুফা বেগম বলেন, কবি সুফিয়া কামাল আমাদের যে পথ দেখিয়েছে, সে পথ আমরা অনুসরণ করবো। তিনি নারী মুক্তির আন্দোলন, প্রগতিশীল চেতনার সংগ্রাম, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী। সভায় প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ,দিনাজপুর জেলা শাখার সহ- সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারা সানু। বক্তারা বলেন, শতাব্দীর সাহসিকা সুফিয়া কামাল জাতির বিবেক। তিনি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তার বুকের ভেতরের আগুন ও সাহস, তিনি সঞ্চারিত করে দেন অন্য অনেকের মধ্যে। শুধু সাহসিকা নন, পরম মমতাময়ী, সংকট উত্তরণের সংগ্রামে সাহস ও প্রেরণাদাত্রী। অমিততেজ এই মানুষটি সকলের কাছে ছিলেন অসীম প্রেরণার উৎস, অন্ধকারে আলোর শিখা। জাতির সকল সংকট মূহুর্তে তিনি বার বার পথ দেখিয়েছেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন,অর্থ সম্পাদক রতœা মিত্র,লিগ্যাল এইড সম্পাদক জিন্নুরাইন পারু, চেহেলগাজী কলেজের প্রভাষক রুকশানা বিলকিস,ভারপ্রাপ্ত আন্দোলন সম্পাদক সুমিত্রা বেসরা,শিক্ষ ও সংস্কৃতি সম্পাদক রওশনারা বেগম, প্রশিক্ষণ গবেষণা ও পাঠাগার উপ-পরিষদের সম্পাদক রুবি আফরোজ,সদস্য গোলেনুর,জেসমিন,নুরুননাহার, জেলা ও পাড়া কমিটির সদস্যবৃন্দ। সভায় পরিচলনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক রুবিনা আকতার।

  • কথা শিল্পী হুমায়ূন আহমেদ এর ৭০ তম জন্মদিন আজ

    বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির অন্যতম পথিকৃৎ, খ্যাতিমান কথাশিল্পী, চলচ্চিত্র-নাটক নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মদিন আজ সোমবার। হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকেনা জেলার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ফয়েজুর রহমান। একাত্তরে পাকাবাহিনী তাকে হত্যা করে। মা আয়েশা ফয়েজ। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই বাংলা সাহিত্যের এই সৃষ্টিশীল ও জনপ্রিয় লেখক যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ইন্তেকাল করেন। হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জš§দিন উপলক্ষে এসিআই পিওর সল্টের পৃষ্টপোষকতায় চ্যানেল আই ‘হুমায়ূন মেলা’র আয়োজন করেছে। আজ সোমবার বিকাল ৩টা ৫ মিনিটে চ্যানেল আই চত্বরে দেশের বিভিন্ন অঙ্গণের বিশিষ্টজনেরা এ মেলার উদ্বোধন করবেন। স্কুল জীবনে হুমায়ূন আহমেদকে পিতার চাকরিস্থলে কুমিল্লা, সিলেট, বগুড়া, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন জেলায় বসবাস করতে হয়। তিনি ১৯৬৭ সালে বগুড়া জিলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা (রাজশাহী বিভাগে মেধাতালিকায় দ্বিতীয়), ১৯৬৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ¯œাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ছাত্র জীবনেই তার লেখালেখি শুরু। ১৯৭২ সালে তার প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশ পায়। তখন তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় উপন্যাস‘ শঙ্খনীল কারাগার। এই দুটি বই প্রকাশের পর হুমায়ূন আহমেদ একজন শক্তিশালী কথাশিল্পী হিসেবে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়ে ওঠেন। সেই থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার দুই শতাধিক বই প্রকাশিত হয়। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক তিনি লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার লেখায় বাঙালি সমাজ ও জীবনধারার গল্পমালা ভিন্ন আঙ্গিকে এবং রসাত্বক ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। গল্প বলায় ভাষার ব্যবহারে নিজস্ব একটা কৌশল এবং বর্ণনায় লোকজধারাকে প্রাধান্য দেন। বাস্তবতা থেকেই উঠে এসেছে তার প্রতিটি সৃষ্টিকর্ম। মানুষের মানচিত্রও উঠে এসেছে। বাংলা সাহিত্যের কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যে তাকে পথিকৃৎ বলেছেন সমোলোচরা। তিনি উপন্যাস, গল্প, জীবনী, নাটক, চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার লেখা বেশ কয়েকটি উপন্যাস, কয়েকটি নাটক, কয়েকটি চলচ্চিত্র কালজয়ী কর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত দশকের একজন সৃষ্টিশীল ও জনপ্রিয় লেখক হচ্ছেন হুমায়ূন আহমেদ। শিক্ষকতায় ছিলেন দীর্ঘদিন। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরববর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। লেখালেখিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে শিক্ষকতা থেকে তিনি অবসর নেন। শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে হুমায়ূন আহমেদ গাজিপুরে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ নুহাশ পল্লী ।’ এই প্রতিষ্ঠানই ছিল তার সকল কাজের আঙ্গিণা। হুমায়ূন আহমেদের ১১৮টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে অন্যপ্রকাশ। এই সংস্থার স্বত্তাধিকারী মাজহারুল ইসলাম বাসসকে বলেন, হুমায়ূন আহমেদ গত শতকের অন্যমত জনপ্রিয় লেখক। তার সৃষ্টিশীলতার জন্যই তিনি এই জনপ্রিয়তা পান। মৃত্যুর পরও পাঠকরা তার বই কিনছে। তরুণ সমাজ ও নতুন পাঠকরা এখনও তার লেখাগুলো কিনছে। তার লেখা পুরনো বইগুলো এখন বিভিন্ন বয়সের পাঠক সংগ্রহ করছেন। বাংলা সাহিত্যে এই লেখকের সৃষ্টি অনাদিকাল অক্ষয় রবে। তার প্রকাশিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বই হচ্ছে, হোটেল গ্রেভারইন, দেবী, অনন্ত অম্বরে, কোথাও কেউ নেই, জ্যো¯œা ও জননীর গল্প, আগুনের পরশমনি, মধ্যাহ্ন, কিশোর সমগ্র, আয়না ঘর, একজন মায়াবতী, কে কথা কয়, অপেক্ষা, আমার আছে জল, লীলাবতী, হরতন ইস্কাপন, হলুদ হিমু কালো র‌্যাবসহ হিমুকে নিয়ে লেখা সিরিজ, মিসির আলী সিরিজ, শুভ্র সিরিজ। হাতেগল্প পঞ্চাশ, আমিউ মিছির আলী, হিমু রিমান্ডে, মিছির আলীর চশমা, দিঘির জলে কার ছায়া গো, লিলুয়া বাতাস, হুমায়ুন আহমেদের ভৌতিক অমনানিবাস, কূহক, পাপ ৭১, শ্রাবন মেঘের দিন। তার নির্মিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে শঙ্খনীল কারাগার, শ্রাবন মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, নয় নম্বর বিপদ সংকেত, শ্যামল ছায়া। সাহিত্যে অবদানের জন্য হুমায়ূন আহমেদ একুশে পদক, বাংলা একাডেমী পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন। চ্যানেল আই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর মেলা আয়োজনের সম্পর্কে বাসসকে জানান, হুমায়ূন আহমেদ নানাভাবে চ্যানেল আই ও ইমপ্রেস টেলিফিল্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য অনেক নাটক ও সিনেমা তৈরি করেছেন এবং নানা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। তাকে নিয়ে এ ধরনের একটি মেলার আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত। তিনি বলেন, অন্যবারের মতো এবারও মেলায় নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উদযাপিত হবে। মেলায় লেখকের বই, চলচ্চিত্র, নাটকসহ তার কর্মজীবনের নানা সামগ্রীর স্টল থাকবে। পরিবেশিত হবে হুমায়ূন আহমেদের লেখা গান, নাচ, আবৃত্তি ও স্মৃতিচারণ। মেলা চলবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল আই ও রেডিও ভূমি।

  • সপ্তম আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসব ‘ঢাকা লিট ফেস্ট’ ১৬নভেম্বর থেকে শুরু

    আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসব ‘ঢাকা লিট ফেস্ট’ আগামী ১৬ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতা ও বাংলা একাডেমির সহযোগিতায় তিন দিনব্যাপী সপ্তম এ আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসবটির আয়োজন করছে যাত্রিক। উৎসব চলবে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত দেশি-বিদেশি লেখক, কবি, সাহিত্যিক, গবেষক ও শিল্পীগণ সাহিত্যের নানা ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা ও আড্ডায় মেতে উঠবেন। সাহিত্য উৎসবে বিদেশি অতিথিদের মধ্যে সিরিয়ার কবি আদোনিস, নাইজেরিয়ার সাহিত্যিক বেন ওক্রি, অভিনেত্রী টিল্ডা সুইন্টন, মার্কিন সাহিত্যিক লিওনেল শ্রিভার, প্রদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত ভারতীয় কথাসাহিত্যিক নবনীতা দেব সেন, কথাসাহিত্যিক উইলিয়াম ড্যালরিম্পেল, লেখক এসথার ফ্রয়েডসহ আরো অনেকে থাকবেন। বাংলাদেশ থেকে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, মইনুল আহসান সাবের, আলী যাকের, সেলিনা হোসেন, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, আনোয়ারা সৈয়দ হক, কবি আসাদ চৌধুরী, আনিসুল হক, সলিমুল্লাহ খান, কায়জার হক, খাদেমুল ইসলামসহ দেড় শতাধিক কবি, সাহিত্যিক, রাজনীতিক ও গবেষক অংশগ্রহণ করবেন।

  • জন্মদিন উপলক্ষে ‘হুমায়ূন মেলা’ সোমবার চ্যানেল আই চত্বরে

    বাংলা সাহিত্যের নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মদিন উপলক্ষে ‘হুমায়ূন মেলা’র আয়োজন করা হয়েছে। ১৩ নভেম্বর, সোমবার বিকাল ৩টা ৫ মিনিটে চ্যানেল আই চত্বরে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা এ মেলার উদ্বোধন করবেন। এসিআই পিওর সল্টের পৃষ্টপোষকতায় চ্যানেল আই এ মেলার আয়োজন করেছে। আজ দুপুরে চ্যানেল আই ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়। এতে চ্যানেল আই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, মেলার পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান এসিআই সল্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আলমগীর ও সঙ্গীতশিল্পী সেলিম চৌধুরী বক্তৃতা করেন। ফরিদুর রেজা সাগর বলেন ‘হুমায়ূন আহমেদ নানাভাবে চ্যানেল আই ও ইমপ্রেস টেলিফিল্মের সাথে যুক্ত ছিলেন। আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য অনেক নাটক ও সিনেমা তৈরি করেছেন এবং নানা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। তাকে নিয়ে এ ধরনের একটি মেলার আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত। তিনি বলেন, অন্যবারের মতো এবারও মেলায় নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উদযাপিত হবে। যেমন-মেলায় থাকবে লেখকের বই, চলচ্চিত্র, নাটকসহ তার কর্মজীবনের নানা সামগ্রীর স্টল। মেলা প্রাঙ্গণ মঞ্চে পরিবেশিত হবে হুমায়ূন আহমেদের লেখা গান, নাচ, আবৃত্তি, স্মৃতিচারণ পর্ব ইত্যাদি। মেলা চলবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল আই ও রেডিও ভূমি। এসিআই সল্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আলমগীর বলেন, হুমায়ূন আহমেদ হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি আমাদের পাঠাভ্যাস গড়ে দিয়েছেন। ভালো নাটক ও সিনেমা দেখার চোখ সৃষ্টি করেছেন। তাকে নিয়ে গর্ব করার অনেক বিষয় রয়েছে। জননন্দিত এ কথাশিল্পীকে নিয়ে এ ধরনের একটি মেলায় নিজেরা যুক্ত হতে পেরে গর্বিত। তাকে নিয়ে শো-বিজ অঙ্গণে কোনো পদক প্রচলন করা যায় কিনা, এমন এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আলমগীর বলেন, চ্যানেল আই’র সহযোগিতা থাকলে অবশ্যই তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যে মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন নাট্যজন কেরামত মওলা, আনন্দ আলো সম্পাদক রেজানুর রহমান ও অভিনেতা মাজনুন মিজান। তারাও হুমায়ূন আহমেদের নানা স্মৃতিকর্ম নিয়ে কথা বলেন।

E-mail : info@dpcnews24.com / dpcnews24@gmail.com

EDITOR & CEO : KAZI FARID AHMED (Genarel Secratry - DHAKA PRESS CLUB)

Search

Back to Top