অর্থনীতি

২০১৭ - ২০১৮ অর্থ বছরে ৫ থেকে ৬ লাখ মে. টন ইলিশ উৎপাদনের সম্ভাবনা

প্রজনন মৌসুমে ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় এবার নির্বিঘেœ ডিম ছাড়তে পেরেছে ইলিশ। বিশেষ করে বৃষ্টিপাত ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সমুদ্র থেকে অধিক ইলিশ ডিম ছাড়তে নদীতে এসেছিলো। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট চাঁদপুর নদীকেন্দ্রের ১৪ সদস্য বিশিষ্ট গবেষণা দল দেশের ৯টি পয়েন্টে গবেষণামূলক জরিপ চালিয়ে জানিয়েছে, এবার ৪৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ ইলিশ ডিম ছাড়তে সক্ষম হয়েছে। এ কারণে এবার ইলিশের পোনা বা জাটকা উৎপন্ন হবে ৪০ হাজার কোটি বা তার কিছু বেশি। যা গতবারের চেয়ে আড়াইগুণ বেশি। আগামী জাটকা মৌসুমে এসব পোনা সংরক্ষণ করা সম্ভব হলে এ অর্থ বছরে ৫/৬ লাখ মে. টন ইলিশ উৎপাদন হতে পারে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট নদী কেন্দ্র চাঁদপুরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাসুদ হোসেন খান জানান, চাঁদপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ৪টি প্রধান প্রজনন কেন্দ্রে ২২ দিন ইলিশসহ সব মাছ ধরা বন্ধ ছিল। মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণার বিজ্ঞানী দল মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন অংশ থেকে নমুনা ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে চূড়ান্ত জরিপ করে ফলাফল দিয়েছে। তাতে দেখা যায় এ বছর ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে ডিম ছাড়ার ইলিশের পরিমাণ ৪৬.৪৭ শতাংশ যা বিগত বছরের তুলনায় আড়াইগুণ বেশি। ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে এ হার ছিলো ৪৩.৯৫ ভাগ এবং ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে ডিম ছাড়ার হার ছিলো ৩৩.৪৬ ভাগ। বিশেষ করে এ বছর প্রাকৃতিক পরিবেশ অর্থাৎ অধিক বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া এবং পানির প্রবাহ সব মিলে পরিবেশ ছিল স্বাভাবিক। যার কারণে অধিক পরিমাণ ইলিশ সমুদ্র থেকে নদীতে উঠে আসতে পেরেছে এবং নিরাপদে ডিম ছেড়েছে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনিস্টিটিউট চাঁদপুর নদী কেন্দ্রের প্রধান মৎস্য গবেষক ডা. মাসুদ হোসেন খাঁন জানান, ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে এ অভিজানের ফলে ৬ লাখ ৬৮ হাজার ২৯১ কেজি ডিম উৎপাদন হয়। যার ফলে ৩৯ হাজার ২৬৮ কেজি জাটকা যুক্ত হয়, সর্বোপরি জেলেরা ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৪১৭ মে. টন ইলিশ আহরণ করে। এর পূর্বের বছর ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে ৩লাখ ৯৪ হাজার ৯৫১ মে. টন ইলিশ উৎপাদন হয়। ওয়ার্ল্ড ফিশের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ইলিশের ৬৫ শতাংশই উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির হার ২৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ। যদিও এক যুগ ধরে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির হার ১০ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছিল। মৎস্য অধিদফতরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক শেখ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মৎস্য উৎপাদনের যে পরিসংখ্যান পেয়েছি সেটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে খসড়া হিসেব অনুযায়ী ইলিশের উৎপাদনটা মোটামুটি ঠিক আছে। গত অর্থবছরে ইলিশের মোট উৎপাদন ৪ লাখ ৯৬ হাজার টন। তিনি বলেন, সরকারের নানামুখী উদ্যোগের ফলে ইলিশের উৎপাদন প্রতিবছর বেড়েই চলছে। আশা করছি চলতি অর্থবছরে সাড়ে ৫ লাখ থেকে ৬ লাখ টন ইলিশ উৎপাদিত হবে। চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও নদী কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক আনিছুর রহমান জানান, ইলিশের ডিম ছাড়ার হার পর্যবেক্ষণসহ পানির গুণাগুণ ও দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট দল নিয়ে গবেষণা জাহাজসহ চাঁদপুর থেকে যাত্রা শুরু হয়। বিশেষ করে লক্ষ্মীপুরের রামগতি, হাতিয়া, মনপুরা, ভোলা, দৌলতখান, ইলিশা, মেহেন্দিগঞ্জ ও শরীয়তপুর এ ৯টি পয়েন্টে গবেষণামূলক জরিপ করে সেখানে পানির গুণাগুণ স্বাভাবিক পাওয়া যায়। এছাড়া এ প্রজনন মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ছিল। যার কারণে ইলিশের ডিম ছাড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং সফলভাবে ডিম ছাড়তে পেরেছে, এবার ডিম ছাড়ার এ হার ছিলো ৪৬.৪৭ শতাংশ । এসব ডিম থেকে জাটকা তৈরি হবে যা সংরক্ষণ করতে পারলে এ বছরে ৫ লাখ মে. টন এর বেশি ইলিশ উৎপাদন করা সম্ভব হতে পারে। সরকার আগামী জাটকা মৌসুমে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে দেশে ইলিশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও ইলিশ রফতানি করা সম্ভব হবে বলে জানান এ ইলিশ গবেষক।

  • কর কার্যালয়ে মেলা শুরু : কর মেলার সব সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে

    করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের সুবিধার্থে দেশের সকল কর কার্যালয়ে রোববার থেকে শুরু হয়েছে আয়কর মেলা। চলবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। মেলার পরিবেশে এখানে সব ধরনের করসেবা পাওয়া যাচ্ছে। প্রথম দিনেই ঢাকার কর কার্যালয়গুলোতে করদাতাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে রিটার্ন জমা দিয়ে কর কার্ড পাওয়ার আশায় করদাতারা কর কার্যালয়ে ভিড় করছেন। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ এ মু’মেন বাসসকে বলেন, মেলার পরিবেশে কর কার্যালয়গুলোতে সব সুবিধা দেয়া হচ্ছে। যেসব করদাতা আয়কর মেলায় রিটার্ন জমা দিতে পারেননি,তারা এখানে এলে মেলার সুবিধা পাবেন। তিনি বলেন,কর কার্যালয়ে ২০ থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্নের প্রাপ্তি রসিদ দেখিয়ে ঢাকার করদাতারা কর কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে আগামী বছর দেশের অন্যান্য করাঞ্চলেও কর কার্ড পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য,এবারের কর মেলায় করদাতাদের ব্যাপক সমাগম হয়। এবারই প্রথমবারের মতো ঢাকা ও চট্টগ্রামের করদাতারা রিটার্ন দিলে কর কার্ড দেয়া হয়। এতে করদাতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আগ্রহের বিষয়টি মাথায় রেখে ঢাকার করদাতাদের জন্য কর কার্যালয়েও কর কার্ডের ব্যবস্থা করেছে এনবিআর। ৩০ নভেম্বর রিটার্ন জমার সময় শেষ হবে। এই সময়ে করদাতারা রিটার্ন দিতেই কর কার্যালয়ে ভিড় করে থাকেন।তাই প্রতিটি করাঞ্চলে করদাতাদের সহায়তার জন্য বুথ রাখা হয়েছে।এখানে ফরম পূরণে যাবতীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।ইলেকট্রনিক কর শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন), পুনর্নিবন্ধন, টিআইএনে ভুল-ত্রুটি সংশোধনসহ যেকোনো কর সেবা পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া নারী, প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রবীণ করদাতাদের বিশেষ যতেœ কর সেবা দেয়া হচ্ছে। অনলাইনে রিটার্ন জমা বা ই-ফাইলিং করার সুযোগ রয়েছে। এবারই প্রথমবারের মতো বেসরকারি চাকরিজীবীদের রিটার্ন দেয়া বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। তাই এবার তুলনামূলক বেশি রিটার্ন জমা পড়বে বলে আশা করছে এনবিআর। বর্তমানে ৩১ লাখ টিআইএনধারী আছেন। গতবছর সব মিলিয়ে ১৫ লাখের মতো টিআইএনধারী রিটার্ন জমা দেন।

  • আবাসন খাতে রাজস্ব জটিলতা থাকবে না : নজিবুর রহমান

    আবাসন শিল্প খাতে রাজস্ব সংক্রান্ত জটিলতা আর থাকবে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আবাসন খাতের সমস্যার সমাধানে এনবিআর রিহ্যাবে সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। ইতোমধ্যে এনবিআর এ খাতের ৮টি সমস্যা চিহ্নিত করেছে।এসব সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করা হবে। ফলে ভবিষ্যতে এই খাতে রাজস্ব সংক্রান্ত কোন জটিলতা আর থাকবে না।’ গতকাল শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে পূর্বানী হোটেলে ‘রিহ্যাব-এনবিআর’ যৌথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রিয়েল এস্টেট এন্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সংসদ সদস্য নুরন্নবী চৌধুরী শাওন, এনবিআর সদস্য ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন ও পারভেজ ইকবাল, রিহ্যাব ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভুইয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। নজিবুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা হলো দেশে যেসব সম্ভাবনাময় শিল্প রয়েছে সেগুলোর দিকে নজর দেওয়া। সেই মোতাবেক এনবিআর আবাসন খাতের প্রতি বিশেষ নজর দিচ্ছে। প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা অগ্রাধিকারভিত্তিতে দেওয়া হবে; যাতে এ শিল্পের অমিত সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায়। এনবিআর বৃত্তের বাইরে গিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা নিজেদেরকে বৃত্তের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। জনগণের কাছে আমাদের সেবা পৌঁছে দিচ্ছি। এর অংশ হিসেবে গত পয়লা বৈশাখ রাজস্ব হালখাতা করা হয়েছে।আয়কর মেলায় নতুন নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।মেলায় প্রথমবারের মত কর বাহাদুর পরিবার সম্মাননা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। রিহ্যাবের সহযোগিতা চেয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৯ সালের জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হবে। এই আইন বাস্তবায়নে আগামী দুই বছর রিহ্যাব-এনবিআর যৌথভাবে কাজ করবে। যৌথভাবে প্রশিক্ষণ বা কর্মশালা আয়োজন করা হবে।নতুন ভ্যাট আইন সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের মধ্যে যেন জটিলতা না থাকে এ জন্য আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। নজিবুর রহমান বলেন, কর ব্যবস্থাপনায় আমরা প্রয়োজনীয় সংস্কার করছি। সামরিক শাসন আমলে জারি করা বর্তমান কর আইন বা অধ্যাদেশ সংস্কার করে গণমূখী নতুন আয়কর আইন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলা এবং ইংরেজি দুই ভাষাতে এই আইন হচ্ছে। নতুন আয়কর আইনের ক্ষেত্রে রিহ্যাবের কোন পরামর্শ থাকলে, আপনারা লিখিতভাবে দিতে পারেন। এতে আবাসন খাতের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড তুলে ধরে নজিবুর রহমান বলেন, পল্লী উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।এর মধ্যে পল্লী আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন অন্যতম। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে রিহ্যাব কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল বলেন,আবাসন খাতের জন্য সেকেন্ডারি বাজার ব্যবস্থা চালু করার প্রয়োজন। এর জন্য রেজিস্ট্রেশন ব্যয় কমাতে হবে।সেকেন্ডারি বাজারে সর্বমোট রেজিস্ট্রেশন খরচ তিন শতাংশ করার প্রস্তাব করেন তিনি। তিনি জানান, প্রতিবছর ১৫ থেকে ১৭ হাজার ফ্ল্যাট হস্তান্তর হয়। কিন্তু সে অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে না। সেকেন্ডারি বাজার থাকলে রাজস্ব আয় বেড়ে যাবে। রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সংসদ সদস্য নুরন্নবী চৌধুরী শাওন বলেন, আবাসন খাতের উন্নয়নে করহার হ্রাস ও সরকারের নীতি সহায়তা বাড়াতে হবে। অর্থের অভাবে অনেক নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যথার্থ গৃহঋণ না থাকায় বিক্রিত ফ্ল্যাটের রিপ্লেসমেন্ট হচ্ছে না বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, উচ্চ রেজিস্ট্রেশন ব্যয়ের ফলে ক্রেতারা আগ্রহ হারাচ্ছে। এজন্য রাজস্ব আয়ও কম হচ্ছে। সম্ভাবনাময় এ খাতকে এগিয়ে নিতে রেজিস্ট্রেশন ব্যয় ও গেইন ট্যাক্স কমানো, সেকেন্ডারি বাজার তৈরি এবং স্বল্প সুদে বিশেষ তহবিল গঠনের দাবি জানান তিনি। শাওন বলেন,রেজিস্ট্রেশন ব্যয় সাড়ে ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ছয় শতাংশ করতে হবে।

  • প্রায় ৬০ লাখ মানুষ পোল্ট্রি শিল্পের সাথে জড়িত, বছরে বিনিয়োগ প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা

    বর্তমানে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পোল্ট্রি শিল্পের সাথে জড়িত, যার প্রায় ৪০ শতাংশই নারী। অন্যদিকে, পোল্ট্রি শিল্পে বর্তমানে বিনিয়োগ ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। জিডিপি’তে এখাতের অবদান প্রায় ২ শতাংশ। বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)-এর সভাপতি মসিউর রহমান এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘২০২১ সাল নাগাদ এখাতে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে’। সারাদেশে বর্তমানে প্রায় ৬৫-৭০ হাজার ছোট-বড় খামার আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে দেশে বার্ষিক ডিম উৎপাদন ছিল ৬৩৯ কোটি, ২০১৫ সালে ৭১২ কোটি এবং ২০১৬ সালে ডিম উৎপাদন ছিল ৮২১ কোটি। ২০২১ সাল নাগাদ বার্ষিক ডিমের চাহিদা দাঁড়াবে প্রায় ১ হাজার ৪৮০ কোটি। বিপিআইসিসি সভাপতি বলেন, ‘আমদানি নির্ভরত কাটিয়ে সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে দেশের পোল্ট্রি শিল্প। এই খাতে নিরব বিপ্লব হয়েছে। আশির দশকে এই খাতে বিনিয়োগ ছিল প্রায় ১৫শ’ কোটি টাকা। বর্তমানে ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে’। বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে মুরগির মাংসের দৈনিক উৎপাদন প্রায় ১ হাজার ৮৫১ মেট্রিক টন। প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ থেকে ২৫ লাখ ডিম উৎপাদিত হচ্ছে। দেশে মুরগির মাংসের উৎপাদন প্রতিবছর বাড়ছে উল্লেখ করে মসিউর রহমান জানান, মুরগীর মাংসের বার্ষিক উৎপাদন ২০১৪ সালে ছিল ৫ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন, ২০১৫ সালে ৫ লাখ ৭৪ হাজার মেট্রিক টন এবং ২০১৬ সালে ছিল ৬ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন। ২০২১ সালে দেশে মুরগির মাংসের চাহিদা হবে প্রায় ১২.৫ লাখ মেট্রিক টন। তিনি জানান, আগে ডিম এবং ব্রয়লার মুরগি আমদানি করতে হতো। এখন তা শূন্য। আগে হ্যাচিং ডিম আমদানি করতে হতো। আগে গ্রান্ড প্যারেন্টস্টক (জিপি) ফার্ম ছিল না পুরোটাই ছিল আমদানি নির্ভর। এখন বাংলাদেশে ৭টি ‘গ্রান্ড প্যারেন্টস্টক’ (জিপি) ফার্ম আছে। আর ‘প্যারেন্টস্টক’ বা পিএস ফার্মের সংখ্যা ছোট-বড় মিলে প্রায় ৮০টি। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন দিয়েই দেশের হ্যাচিং ডিমের শতভাগ চাহিদা পূরণ হচ্ছে। মসিউর রহমান আরও জানান, আগে আধুনিক ফিড ইন্ডাষ্ট্রি বলে কিছু ছিল না বিধায় শতভাগ প্যাকেটজাত ফিড আমদানি করতে হতো। কিন্তু বর্তমানে প্যাকেটজাত ফিড আমদানি করতে হয় না। দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমেই শতভাগ চাহিদা পূরণ হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ১৮৬টি ফিডমিল গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে আধুনিক এবং নিবন্ধিত ফিড মিলের সংখ্যা প্রায় ৭০টি। বিপিআইসিসি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে (২০১৭) পোল্ট্রি ফিডের বাৎসরিক উৎপাদন প্রায় ৪০ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ফিড মিলে উৎপাদিত হচ্ছে দেশের প্রায় ৯৫ ভাগ ফিড।আগে পোল্ট্রি শিল্পে প্রয়োজনীয় ভুট্টার প্রায় পুরোটাই আমদানি করতে হতো। এখন চাহিদার প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ ভুট্টা দেশে উৎপাদিত হচ্ছে। চালের কুঁড়া বা রাইস পলিসও দেশীয়ভাবে পাওয়া যাচ্ছে। আগে দেশীয়ভাবে হাঁস-মুরগির তেমন কোন ঔষধ তৈরি হত না। পুরোটাই ছিল আমদানি নির্ভর। কিন্তু এখন প্রায় ৩০টি কোম্পানী দেশীয়ভাবে বিভিন্ন ঔষধ তৈরি করছে। ফলে আমদানি নির্ভরতা কমতে শুরু করেছে। বিপিআইসিসি সূত্রে আরো জানা যায়, বাংলাদেশে জনপ্রতি মুরগির মাংস খাওয়ার পরিমাণ বছরে মাত্র সাড়ে ৪ কেজি। অথচ উন্নত বিশ্বের মানুষ বছরে গড়ে প্রায় ৪৫-৫০ কেজি মুরগির মাংস খেয়ে থাকে। এফএও’র মতে জনপ্রতি নূন্যতম ডিম খাওয়া উচিত বছরে ১০৪ টি। উন্নত দেশগুলোতে জনপ্রতি গড়ে প্রায় ২২০ টির মত ডিম খাওয়া হয়। জাপানে জনপ্রতি ডিম খাওয়ার পরিমান বছরে প্রায় ৬০০টি। অথচ বাংলাদেশে বছরে মাথাপিছু ডিম খাওয়ার হার বর্তমানে প্রায় ৭০টি। অনুরূপভাবে, মাছ ও মাংস মিলে বছরে প্রাণিজ আমিষ খাওয়া দরকার বছরে অন্ততঃ ২৫ থেকে ৩০ কেজি। কিন্তু বাংলাদেশে এর হার প্রায় ২৩ কেজি (মাংস ৮ কেজি, ১৫ মাছ)। বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)-এর সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, ‘সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পোল্ট্রি শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে মুরগির ডিম ও মাংসই প্রাণিজ আমিষের সবচেয়ে বড় যোগানদাতা’। বিপিআইসিসি মুরগির ডিম ও মাংসকে অধিকতর নিরাপদ করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সবশ্রেণীর মানুষের জন্য পোল্ট্রি সামগ্রীকে সাশ্রয়ী ও স্বাস্থ্যসম্মত করতে গিয়ে আমাদের উৎপাদন খরচ আগের চেয়ে বেড়ে গেছে’। পোল্ট্রি খাতের উপর থেকে কর ও শুল্ক হ্রাসের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যেহেতু কনজুমার এবং কনজাম্পশন দু’টোই বাড়াতে চাই, তাই দাম বাড়ানো যাচ্ছে না। এর মানে হচ্ছে উৎপাদন খরচ কমাতে হবে’। তিনি এ শিল্পের ওপর থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সব ধরনের কর ও শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানান। বাংলাদেশে পোল্ট্রি শিল্পের সম্ভাবনা ও আগ্রগতি সম্পর্কে আশা প্রকাশ করে প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আইনুল হক বাসস’কে বলেন, ‘সরকারের সহায়ক ভূমিকার কারণে গত একদশকে পোল্ট্রি খাত শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। এই শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ছে। বেকারত্ব দূরীকরণে এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে’। এ খাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, পোল্ট্রি উদ্যোক্তাদের বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংক সহজ শর্তে ঋণ দিচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পোল্ট্রি উপকরণ আমদানিতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দিচ্ছে। পোল্ট্রি ও প্রাণীসম্পদের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘ডিআরএমডি’ প্রকল্পটি প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক

হাসিনা-ইলদিরিম পারস্পরিক স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম আজ দু’দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক স্বার্থে একযোগে কাজ করা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন। দুই নেতা মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠানোসহ দ্বিপক্ষীয় ও পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার এবং পরস্পরকে সমর্থন করার অঙ্গিকারও পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সফররত তুর্কী প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম আজ এখানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে পৃথক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন- পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মামুদ আলী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রমুখ। তুরস্কের পক্ষে ছিলেন-উপ-প্রধানমন্ত্রী ও তুর্কি-বাংলাদেশ যৌথ কমিশনের কো-চেয়ার বেকির বোজাগ ও বাংলাদেশে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ডেভরিম ওজতুর্ক প্রমুখ। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম দুই দিনের সরকারি সফরে গতকাল সোমবার বাংলাদেশে আসেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় তুরস্ক পাশে থাকবে। তিনি বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গাদের প্রতি অব্যাহত সমর্থনের জন্য তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগানকে ধন্যবাদ জানান। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে খুবই সুদৃঢ় ও ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, তুরস্কের গণতন্ত্র ও সরকারের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের কথা তুরস্ক ভুলে যায়নি। শেখ হাসিনা বলেন, তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দ্বিপক্ষীয় ও অভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ইস্যুতে খুবই ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠানোসহ দ্বিপক্ষীয় ও পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার এবং পরস্পরকে সমর্থন করার অঙ্গিকারও পুনর্ব্যক্ত করেছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, পর্যটন ও যোগাযোগের মত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দু’দেশের সহযোগিতা সংহত করার ব্যাপারেও তিনি তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দু’দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), শিল্প উৎপাদন, স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন, সামর্থ্য বিনির্মাণ, জ্ঞান বিনিময় ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে সহায়ক হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের জন্য বিনালি ইলদিরিমকে ধন্যবাদ জানান। ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার জন্য বর্তমান সরকারের লক্ষ্যের প্রশংসা করে তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই উন্নয়নের অংশীদার হতে তাঁর দেশ প্রস্তুত রয়েছে। তুর্কি প্রধানমন্ত্রী সংকট কাটিয়ে না ওঠা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং জাতিসংঘকে বাংলাদেশের পাশে থাকার আহ্বান জানান। তিনি মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তায় বাংলাদেশের প্রতি তুরস্কের অব্যাহত সমর্থনের আশ্বাস দেন। তিনি জেরুজালেম ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকা এবং এই ইস্যুতে ওআইসি’র বিশেষ সম্মেলনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির উপস্থিতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পরে পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে বলেন, অত্যন্ত আন্তরিক ও উষ্ণ পরিবেশে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের আগে দুই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী গার্মেন্টস পণ্যে অতিরিক্ত শুল্কসহ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাধা প্রত্যাহারে তুর্কি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, দেশে ফেরার পরে এ বিষয়টি দেখবেন বলে তুর্কি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তুরস্কের বিনিয়োগকারীরা বিশেষ অর্থনৈতিক জোনে বিনিয়োগে সম্মত হলে তাদের জন্য ভূমি বরাদ্দ দিতে বাংলাদেশ সরকার প্রস্তুত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশী কিছু পণ্যে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা এবং দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরের অপেক্ষায় থাকা অবধা বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। জবাবে তুর্কি প্রধানমন্ত্রী আগামী বছরের এপ্রিলে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য দুই দেশের যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠকে এই ইস্যুতে আলোচনায় সম্মতি ব্যক্ত করেন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বৈঠকে তুরস্ক-বাংলাদেশ আন্তঃপার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তুর্কি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, মানবিক বিবেচনায় মিয়ানমারের ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক বিনষ্ট না করেই বাংলাদেশ এই ইস্যুর সমাধান চায়। এ প্রসঙ্গে তিনি রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরাতে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি এই ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর অব্যাহত চাপ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী ভাষাণচরে রোহিঙ্গাদের জন্য আশ্রয় গৃহ ও হসপিটাল নির্মাণে তুর্কি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান। রোহিঙ্গাদের নতুন আশ্রয় স্থান হিসেবে ভাষাণচর নির্ধারণ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, তুর্কি প্রধানমন্ত্রীর সফরে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্ভাবনা কাজে লাগানোর উদ্যোগ একধাপ এগিয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন।

  • রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার চুক্তি স্বাক্ষর

    মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে নিরাপদে ফেরত পাঠানো শুরু করতে আজ দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) গঠন করা হচ্ছে। আজ সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা পদ্মায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক এবং মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব ইউ মিন্ট থু নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে মিয়ানমারের পারমেনেন্টে সেক্রেটারির নেতৃত্বে মিয়ানমারের ৯ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন। রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে সম্পাদিত এই চুক্তিতে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে ফেরত পাঠানো, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরুর প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণে জেডব্লিউজি গঠনের কথা বলা হয়েছে। গত ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এবং স্টেট কাউন্সিলের অফিসের ইউনিয়ন মিনিস্টার ইউ চ্য টিন্ট সোয়ে‘ অ্যারেঞ্জমেন্ট অন রিটার্ন অব ডিসপ্লেসড পারসনস ফরম রাখাইন স্টেট’ (রাখাইন রাজ্যের বাস্তুচ্যুত মানুষদের ফিরিয়ে আনার সমঝোতা) চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। আজকের চুক্তি অনুযায়ী জেডব্লিউজি রোহিঙ্গাদের ফেরার বাস্তব উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এরমধ্যে রয়েছে- যাচাই প্রক্রিয়া, সময়সূচি, পরিবহণ, আনুসঙ্গিক আয়োজন, অভ্যর্থনা প্রক্রিয়া, নির্ধারিত মেয়াদকালে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর জন্য যোগাযোগ। জেডব্লিউজি গোটা প্রক্রিয়া মূল্যায়ন করবে এবং প্রতি তিনমাসে নিজ নিজ সরকারের কাছে রিপোর্ট পেশ করবে। জেডব্লিউজি ইউএনএইচসিআর’র এবং জাতিসংঘের স্বীকৃত অন্যান্য সংস্থা এবং পুনর্বাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে আগ্রহী আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা নেবে। জেডব্লিউজি চুক্তি স্বাক্ষরের দুই মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরু নিশ্চিত করবে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, উভয় দেশ থেকে ১৫ সদস্যের সমন্বয়ে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ জেডব্লিউজি) গঠিত হবে।

  • রাহুল গান্ধীকে ভারতীয় কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা

     ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস সোমবার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাহুল গান্ধীর নাম ঘোষণা করেছে। নেহেরু-গান্ধী পরিবারের এই তরুন সদস্য তার মা সোনিয়া গান্ধীর কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। নয়া দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা মুলাপ্পাল্লি রামাচন্দ্রান ঘোষণা করেন, ‘আমি ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস’ এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে শ্রী রাহুল গান্ধীকে নির্বাচিত ঘোষণা করছি।’

  • দ. কোরিয়ায় প্রবেশের চেষ্টা কালে উ. কোরীয় সৈন্যকে গুলি

    পক্ষত্যাগ করে দক্ষিণ কোরিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে উত্তর কোরিয়ার এক সৈন্যকে গুলি করা হয়। এতে সে আহত হয়। দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ডেমিলিটারাইজড জোনে এই ঘটনা ঘটে। সোমবার সিউলের বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ একথা জানিয়েছে। সিউলের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের বরাত দিয়ে ইয়োনহাপ জানিয়েছে, সৈন্যটি সীমান্ত পার হয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশ করেছে। অপর এক উত্তর কোরীয় সৈন্যের গুলিতে সে গুরুতর আহত হলে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শিক্ষাঙ্গন

নীলফামারীতে ১ হাজার ১৮২ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী সমাজ সেবার উপবৃত্তি পাচ্ছে

জেলায় শিক্ষা উপবৃত্তি পাচ্ছে ১ হাজার ১৮২ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। সমাজ সেবা বিভাগের তত্ত্বাবধানে ওই প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। বৃত্তির টাকায় এসব শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে প্রাথমিক থেকে ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত। জেলা সমাজ সেবা বিভাগ সূত্র জানায়, সদর উপজেলায় ২০৬, সৈয়দপুরে ১৬৭, কিশোরগঞ্জে ১৬৭, জলঢাকায় ২১৪, ডোমারে ২১৫, ডিমলায় ১৬০ ও চারটি পৌরসভা এলাকায় (নীলফামারী, ডোমার, সৈয়দপুর, জলঢাকা) ৫৩ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ছে ৭৬০ জন, নি¤œ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ছে ২৮১ জন, উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ছে ১১০ জন এবং ডিগ্রি ও মাস্টার্স পর্যায়ে পড়ছে ৩১ জন। ওই শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে প্রাথমিক পর্যায়ে ৫০০, মাধ্যমিক পর্যায়ে ৬০০, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ৭০০ এবং ডিগ্রিসহ উচ্চ শিক্ষার জন্য ১হাজার ২০০ টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। জেলা সমাজ সেবা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান বলেন, শিক্ষায় প্রতিবন্ধীদের এগিয়ে নিতে সমাজ সেবা বিভাগের ত্বত্তাবধানে প্রতি মাসে ওই উপবৃত্তির টাকা প্রদান করা হচ্ছে। বৃত্তির টাকায় তাদের লেখাপড়া অব্যাহত আছে।

  • রুয়েটে কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং কোর্স চালু

    রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের লক্ষে কম্পিউটার নেটওয়ার্কিংয়ের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করেছে। রোববার রুয়েট উপাচার্য প্রফেসর রফিকুল আলম বেগ মাসব্যাপী একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা জানান। রুয়েট কেন্দ্রীয় কম্পিউটার সেন্টার এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার যৌথ উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর শিক্ষা ও গবেষণা প্রকল্পের আর্থিক সহায়তায় ‘বেসিক কনসেপ্ট অ্যান্ড কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণ কোর্স অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্য অধ্যাপক বেগ বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণের বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষে জনগণের দোরগোড়ায় আইটি সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার ৫৫,০০০ শিক্ষার্থীকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে যাতে তারা তাদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কম্পিউটার সেন্টারের প্রশাসক অধ্যাপক বশির আহমেদের ষভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবদুল আলীম এবং বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শহীদ উজ জামান। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কম্পিউটার কেন্দ্র অনুষ্ঠিত এই কোর্সে ১৬ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অংশ নেন।

তথ্যপ্রযুক্তি

post-10

হুমায়ূন - হিমুকে নিয়ে ডুডল করেছে গুগল

হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে ডুডল তৈরি করেছে সার্চ ইঞ্জিন গুগল। সোমবার সমসাময়িক বাংলার এই অবিসংবাদিত লেখক ও নির্মাতার ৬৯তম জন্মদিনকে উদযাপনের অংশ হিসেবে ডুডলটি প্রকাশ করে তারা। এতে দেখা যাচ্ছে, হুমায়ূন আহমেদ বসে আছেন, আর তাঁর বিপুল জনপ্রিয় কাল্পনিক চরিত্র হিমু পায়চারি করছে। আর চারপাশে প্রকৃতির আবহ।   আকাশের চাইতে বেশি কিছু ছুঁয়েছিলেন তিনি, জয় করে নিয়েছেন কোটি বাঙালির হৃদয়। এই বাংলায় তার মতো জনপ্রিয়তা সুদূর ভবিষ্যতেও আর কোনো কথাসাহিত্যিক পাবেন কিনা, সে ব্যাপারে সন্দেহ আছে। উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, গান প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার সফলতা। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালনাতেও ছিল তার সমদক্ষতা। তিনি হিমালয়, আমাদের অতি প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ। ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে শহীদ হন। মায়ের নাম আয়েশা ফয়েজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের মেধাবী ছাত্র হুমায়ূন আহমেদ পাঠ শেষে ওই বিভাগেই প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। একপর্যায়ে তিনি অধ্যাপনা ছেড়ে লেখালেখি, নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণে যুক্ত হন। হুমায়ূন আহমেদ একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। তিনি কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্কে ইন্তেকাল করেন। বিশেষ দিন স্মরণে ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গুগল তাদের হোমপেজে মানানসই লোগো তৈরি করে থাকে। এটাকেই বলা হয় ডুডল। এই আয়োজন থাকে গুগল সার্চের মূল পাতায়। এর আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস, প্রখ্যাত স্থপতি এফ আর খানের জন্মদিনসহ বেশকিছু উল্লেখযোগ্য দিনে ডুডল প্রকাশিত হয়েছে। তবে হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে এবারই প্রথম ডুডল প্রকাশ করল বিখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন গুগল।

  • টুইটের সীমা ১৪০ অক্ষর থেকে বেড়ে ২৮০ অক্ষর

    টুইটার ব্যবহারকারীদের জন্য দারুণ খবর। এবার থেকে টুইটার ব্যবহারকারীরা ১৪০ শব্দের সীমানা ছাড়িয়ে ২৮০ শব্দে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারবেন।

    পাশাপাশি, ডিসপ্লে নামের অক্ষর সীমা বেড়ে যাওয়ায় এবার থেকে ৫০ শব্দ খরচ করার ছাড়পত্র পাওয়া গেল।

    টুইটারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, বহুদিন ধরেই টুইটারের ডিসপ্লে নেম-এ ২০ শব্দের মধ্যে লিখতে হতো নাম। ফলে, বহুক্ষেত্রেই সমস্যার সম্মুখীন হতেন টুইটার ব্যবহারকারীরা। তাঁরা অক্ষর সংখ্যা বাড়ানোর আবেদনও জানাচ্ছিলেন।

    টুইটার ব্যবহারকারীদের সেই আবেদন সাড়া দিয়েই অবশেষে মঞ্জুর হলো এই দাবি। ফলে, এখন অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস ব্যবহারকারীরা টুইটার অ্যাপের প্রোফাইল সেটিংসে গিয়ে ডিসপ্লে নাম পরিবর্তন করতে পারবেন। সূত্র: ইন্টারনেট ।

  • ৮০ মেগা পিক্সেলের ক্যামেরা !

    এখন ছবি তুলতে সবাই পছন্দ করে। সে কথা মাথায় রেখে সব সংস্থায় কিছু না কিছু নতুন মডেলের ক্যামেরা বাজারে নিয়ে আসছে।

    এবার জাপানের সংস্থা প্যানাসনিক নতুন একটি মিররলেস ক্যামেরা বাজারে নিয়ে এসেছে। যার মডেল জি 9। এটি লেস পরিবর্তনযোগ্য ক্যামেরা। কোম্পানির এটি ফ্লাগশিপ ক্যামেরা। জি 9 ক্যামেরাটিতে আছে ২০.৩ মেগাপিক্সেলের মাইক্রো ফোর থার্ডস সেন্সর। এতে অপটিক্যাল লো পাস ফিল্টার এবং নতনু ভেনাস ১০ রেন্ডারিং ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে।

    প্যানাসনিক দাবি করছে তাদের এই ক্যামেরাটি ৮০ মেগাপিক্সেলের স্টিল ছবি তুলতে পারে। ‘RAW’ ও জেপিজি ফরম্যাটেও ছবি তোলা যাবে। ক্যামেরাটিতে উন্নত ৫ এক্সিস স্টাবিলাইজেশন ব্যবহার করা হয়েছে।

    ফলে এটি দিয়ে ৬.৫ স্টপ স্লোয়ার শাটার স্পিডে ছবি তোলা যাবে। এটি দিয়ে 6k কোয়্যালিটির ভিডিও করা যাবে। এতে প্যানাসনিকের ডিএফসি অটোফোকাস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে এটি মাত্র ০.০৪ সেকেন্ডে সাবজেক্টকে ফোকাস করতে পারে।

    ইলেকট্রোনিক ওলিড ভিউফাইন্ডার সমৃদ্ধ ক্যামেরাটিতে ৩ ইঞ্চির আর্টক্যালকুলেটিং টাচক্রিন ডিসপ্লে রয়েছে। ক্যামেরাটি প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। এর বডির দাম করা হয়েছে ১৬৯৯ ডলার।

  • ইউজারদের নগ্ন ছবি আপলোড করার আবেদন ফেসবুকের !

    ফেসবুক চায় আপনি আপনার নগ্ন ছবি ফেসবুকে আপলোড করুন। কারণ তাদের মতে, স্যোশাল মিডিয়ায় রিভেঞ্জ পর্ন বা প্রতিহিংসামূলক পর্ন বন্ধ করার এটাই একমাত্র উপায়।

    অন্য কেউ তা আপলোড করার আগে আপনিই তা করে দিন গোপনে এবং হাইড করে রাখুন। যাতে পরে কেউ চাইলেও আর তা করতে না পারে।

    এমন দাবি ওঠায় সারা বিশ্বে হইচই পড়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, স্যোশাল নেটওয়ার্কিং সাইট আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগাতে চাইছে। এজন্য অ্যান্টি-রিভেঞ্জ পর্ন সিস্টেম তৈরি করেছে। যা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে কাজে লাগিয়ে ছবি, ভিডিও ব্লক করতে পারবে।

    এই ধরনের প্রযুক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ায় ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা শুরু হয়েছে। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সুরক্ষাকে আরও জোরদার করতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    ইমেজ ম্যাচিং প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক গ্রুপ ও মেসেঞ্জারে অবাঞ্ছিত ছবি আপলোড আটকাতে চাইছে ফেসবুক।

    ইউজারদের সুরক্ষাকে মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

    নগ্ন ছবি আপলোড করার সময়ে আপনার ডিজিটাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে হবে। তাহলে ভবিষ্যতে আর কেউ আপনার এমন ছবি আপলোড করতে পারবে না। ফেসবুক তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে আগে থেকে চিনে বাতিলের খাতায় ফেলে দেবে।

বিনোদন

Back to Top

E-mail : info@dpcnews24.com / dpcnews24@gmail.com

EDITOR & CEO : KAZI FARID AHMED (Genarel Secratry - DHAKA PRESS CLUB)

Search

Back to Top